রাজশাহীতে কিশোর গ্যাং, ফুটপাত দখল ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের নির্দেশ
জনগণকে হয়রানিমুক্ত ও কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রদানের পাশাপাশি দৃশ্যমান পুলিশি টহল জোরদার করে সার্বিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর (এএসআই) পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের কঠোর দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির।
বৃহস্পতিবার (০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৩টায় আরএমপি সদর দপ্তরের সভাকক্ষে এএসআই পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই নির্দেশনা দেন। মূলত বিট পুলিশিং কার্যক্রমকে গতিশীল করা এবং জনবান্ধব সেবা ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যেই এই ধারাবাহিক সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় থানা এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চলমান বিট পুলিশিংয়ের অগ্রগতি, মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান এবং আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করে তা দ্রুত নিরসনের রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়। পেশাদারিত্ব ও মানবিক আচরণ বজায় রেখে জনগণের জানমালের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বিধানে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সক্রিয় হওয়ার তাগিদ দেন পুলিশ কমিশনার।
বক্তব্যে আরএমপি কমিশনার স্পষ্ট করে বলেন, জায়গা-জমি দখলসংক্রান্ত কোনো বিরোধে পুলিশের সরাসরি হস্তক্ষেপের বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। তবে সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা বিধান ও শান্তি বজায় রাখা পুলিশের মূল দায়িত্ব। তিনি প্রতিটি অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) যথাযথ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটপাত ও প্রধান সড়ক দখলকারী অবৈধ দোকানদার ও হকারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়।
নগরীর রাতের নিরাপত্তা ও জনস্বস্তি রক্ষায় রাত ১০টার পর আবাসিক এলাকায় শব্দদূষণ রোধ এবং কিশোর গ্যাংয়ের যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা রুখতে বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেন তিনি। মাদক কারবারি ও সরবরাহকারীদের সমূলে উৎপাটন করতে নিয়মিত সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি চুরি-ছিনতাই রোধে দৃশ্যমান টহল আরও বেগবান করার জন্য কর্মকর্তাদের বিশেষভাবে সতর্ক করেন কমিশনার। বিট পুলিশিং কার্যক্রমে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে পারস্পরিক আস্থা তৈরির মধ্য দিয়ে একটি নিরাপদ নগরী গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয় সভা থেকে।
পর্যালোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশেষ পুলিশ সুপার (সিটিএসবি) হিসেবে দায়িত্বরত অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মনিরুল ইসলাম, উপ-পুলিশ কমিশনার (ইঅ্যান্ডডি) মো. আবুল কালাম সাহিদ, উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) ও আরএমপির মুখপাত্র মো. গাজিউর রহমান, পিপিএমসহ মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।