হারিয়ে যাওয়া ১২৫টি মোবাইল উদ্ধার করে মালিকদের ফিরিয়ে দিল আরএমপি
অসাবধানতাবশত দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হারিয়ে যাওয়া ১২৫টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিরিয়ে দিয়েছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। আধুনিক প্রযুক্তি ও সাইবার নজরদারির মাধ্যমে এসব ফোন উদ্ধার করে আরএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিট।
বৃহস্পতিবার (০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুর ১২টায় পুলিশ কমিশনারের কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনগুলো প্রকৃত মালিকদের হাতে হস্তান্তর করেন। দীর্ঘদিন পর নিজেদের প্রিয় হ্যান্ডসেট ফিরে পেয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং পুলিশের পেশাদারিত্ব ও আন্তরিক সেবার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এস. এম জার্জিস কাদির বলেন, দীর্ঘদিন আগে হারিয়ে যাওয়া ফোনটি ফিরে পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন তিনি। আরএমপির সাইবার ইউনিটের প্রযুক্তিনির্ভর তৎপরতায় ফোন ফিরে পেয়ে তিনি বিস্ময় ও সন্তোষ প্রকাশ করেন। একইভাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী স্বর্ণা চক্রবর্তী সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে এমন দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপে হারানো ফোন ফেরত পাওয়ায় আরএমপির জনবান্ধব সেবার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির বলেন, বর্তমান ডিজিটাল সময়ে একটি মোবাইল ফোন কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং এর সঙ্গে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংকিং সেবা, স্পর্শকাতর নথি ও বহু স্মৃতি জড়িয়ে থাকে। ফলে একটি ফোন হারালে নাগরিকরা কেবল আর্থিক ক্ষতির শিকার হন না, মানসিকভাবেও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফোন হারানোর পর অনেকেই আইনি ঝামেলা ভেবে জিডি করতে চান না। তবে সাধারণ ডায়েরির সূত্র ধরে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে আরএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিট নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। উদ্ধার অভিযানে নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও নাগরিকদের হারানো সম্পদ ফিরিয়ে দিতে পুলিশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যতে এ ধরনের ক্ষতি এড়াতে সবাইকে মোবাইল ব্যবহারে আরও যত্নশীল হওয়ার এবং ফোনের আইএমইআই (IMEI) নম্বর নিরাপদে সংরক্ষণ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর)-এর দায়িত্বে অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, পিপিএম; উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি)-এর দায়িত্বে অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মনিরুল ইসলাম; উপ-পুলিশ কমিশনার (মতিহার) মাঈনুল ইসলাম, পিপিএম (বার); উপ-পুলিশ কমিশনার (শাহমখদুম) দীন মোহাম্মদ এবং উপ-পুলিশ কমিশনার (ইঅ্যান্ডডি) মো. আবুল কালাম সাহিদসহ মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।