ভাসানীর আদর্শে নারী মুক্তি আন্দোলন বেগবান করার আহ্বান ড. আবু ইউসুফ সেলিমের
দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় নারীদের অধিকার, আত্মমর্যাদা এবং শোষণহীন সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর রাজনৈতিক দর্শনের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন ভাসানী জনশক্তি পার্টির মহাসচিব ড. আবু ইউসুফ সেলিম। তিনি উল্লেখ করেন, শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে মাওলানা ভাসানী যে পথ দেখিয়েছেন, সেই আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত নারী মুক্তি আন্দোলনকে সুসংগঠিত করতে হবে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাজধানীর ভাসানী জনশক্তি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘ভাসানী নারী মুক্তি পার্টি’ আয়োজিত এক কর্মী সমাবেশে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ভাসানী নারী মুক্তি পার্টির নেত্রী শাহানা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা অংশ নেন।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে ড. আবু ইউসুফ সেলিম বলেন, কোনো ব্যক্তিবিশেষের একক বন্দনা বা অতীতমুখী সংকীর্ণ চিন্তা দিয়ে এদেশের মেহনতি মানুষের ভাগ্যের স্থায়ী রূপান্তর সম্ভব নয়। জাতীয় অগ্রগতি ও গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে এদেশের মাটি ও মানুষের সংগ্রামের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ঐতিহাসিক রাজনৈতিক দর্শনকে ধারণ করে এগোতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মাওলানা ভাসানীর রাজনীতি ছিল নিপীড়িত মানুষের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তির দর্শন। তাই দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক অংশ নারীকে গৃহকোণ ও সামাজিক পশ্চাৎপদতার বৃত্ত ভেঙে অধিকার সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শক্তিশালী নারী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য।
তিনি আরও বলেন, নারীর ন্যায্য অধিকার আদায়কে নিছক কোনো আনুষ্ঠানিক সামাজিক কার্যক্রম হিসেবে দেখলে চলবে না, বরং এটিকে সব ধরনের শোষণ ও বৈষম্যের অবসানের লক্ষ্যে চলমান বৃহত্তর গণআন্দোলনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে পরিচালনা করতে হবে। মানুষের মুক্তি ও সমতা নিশ্চিতের সেই মহান লক্ষ্য সামনে রেখেই ভাসানী নারী মুক্তি পার্টির সাংগঠনিক ভিত্তিকে রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত করার তাগিদ দেন তিনি।
সমাবেশে ভাসানী জনশক্তি পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী বলেন, নারীর সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অধিকারের পূর্ণ বাস্তবায়ন ব্যতিরেকে একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন মানবিক সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব নয়। তৃণমূল পর্যায়ে নারীদের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিতে মাওলানা ভাসানীর আদর্শিক চর্চা বেগবান করার আহ্বান জানান তিনি।
সংগঠনের অপর প্রেসিডিয়াম সদস্য কমরেড বাবুল বিশ্বাস বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে নারীদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা, নিরাপত্তা ও আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠার লড়াইকে গতিশীল করতে রাজপথের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস প্রয়োজন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ভাসানী নারী মুক্তি পার্টিকে একটি কার্যকর ও গণমুখী সাংগঠনিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ভাসানী জনশক্তি পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য বিলকিস খন্দকার, ভাসানী সাংস্কৃতিক পার্টির আহ্বায়ক মশিউর রহমান, নারী নেত্রী সিমা বেগম, তাসলিমা খাতুন এবং আফসানা আক্তার মিলি। অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে দেশের প্রতিটি প্রান্তে অধিকারবঞ্চিত নারীদের সংগঠিত করে ভাসানীর আদর্শে শোষণমুক্ত সমাজ বিনির্মাণের শপথ পুনর্ব্যক্ত করা হয়।