দেশে ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও চারজনের মৃত্যু: মোট প্রাণহানি বেড়ে ৯৯১
দেশে সংক্রামক ব্যাধি হাম ও এর উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। সর্বশেষ চব্বিশ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম ও সংশ্লিষ্ট উপসর্গে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে তিনজনের এবং সরাসরি হাম নিশ্চিত হয়ে একজনের প্রাণহানি ঘটেছে। শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো হামবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল আটটা থেকে শনিবার সকাল আটটা পর্যন্ত বিগত চব্বিশ ঘণ্টার সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয় এতে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া সামগ্রিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি বছরের ১০ এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে এবং এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৯৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ৮৯১ জন এবং ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হওয়ার পর মৃত্যুবরণ করেছেন ১০০ জন।
গত চব্বিশ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ৮৪৩ জনের শরীরে হামের বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে ১০ এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত সর্বমোট ১ লাখ ৬৩ হাজার ১০৫ জন ব্যক্তি হামের উপসর্গ নিয়ে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেছেন। একই সময়ে আরও ৭৪ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। ফলে দেশে এ পর্যন্ত মোট নিশ্চিত হাম আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ১৯ হাজার ৬৪১ জনে।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণহানির ঘটনায় শীর্ষে রয়েছে রাজধানী ঢাকাসহ পুরো ঢাকা বিভাগ। এ বিভাগে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৪০১ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুর তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সিলেট বিভাগ, যেখানে মারা গেছেন ১৫৪ জন। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে রাজশাহীতে ৯২, ময়মনসিংহে ৭৫, চট্টগ্রামে ৬৪, বরিশালে ৫৬, খুলনায় ৩৫ এবং রংপুর বিভাগে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে মৃত ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্ট বয়সভিত্তিক তালিকা নিয়মিতভাবে উল্লেখ না থাকলেও রোগতত্ত্ববিদেরা সতর্কবার্তা দিয়েছেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম যেকোনো বয়সের মানুষের দেহে আক্রমণ চালাতে সক্ষম হলেও শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় তারাই সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল ও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ও প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।