জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে নিয়ামতপুরে বৃক্ষরোপণ ও বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট উদ্বোধন
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, টেকসই পরিবেশ সংরক্ষণ ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নওগাঁর নিয়ামতপুরে সমন্বিত পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) উপজেলার পানিহারা গ্রামে বৃক্ষরোপণ, কমিউনিটিভিত্তিক বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট উদ্বোধন, পুকুর পুনঃখনন কার্যক্রম পরিদর্শন এবং অংশগ্রহণমূলক জলবায়ু ঝুঁকি বিশ্লেষণ বিষয়ক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সুইজারল্যান্ড সরকারের অর্থায়নে এবং ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও সুইসকন্টাক্ট বাংলাদেশের কারিগরি সহযোগিতায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) বাস্তবায়িত ‘গোফরইমপ্যাক্ট’ (GO4Impact) প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান এমপি, সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব কো-অপারেশন করিন থেভো (Corinne Thevoz), ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আজমান আহমেদ চৌধুরী, ইএসডিও-এর প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান, গোফরইমপ্যাক্ট প্রকল্পের প্রধান সাইফ মনজুর-আল-ইসলাম, নওগাঁর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. মুর্শিদা খাতুন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু সংকটের ঝুঁকি কমাতে স্থানীয় পর্যায়ের টেকসই উদ্যোগ সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কমিউনিটিভিত্তিক বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। পাশাপাশি জলাশয় সংস্কার ও ব্যাপক বৃক্ষরোপণ স্থানীয় জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে সরাসরি অবদান রাখবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতিমন্ত্রীসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা প্রকল্প প্রাঙ্গণে বিভিন্ন জাতের গাছের চারা রোপণ করেন। এরপর প্রকল্পের আওতায় সদ্য নির্মিত একটি আধুনিক কমিউনিটিভিত্তিক বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও পুনখননকৃত পুকুর পরিদর্শন করেন তারা। পরে ‘গোফরইমপ্যাক্ট’ প্রকল্পের উদ্যোগে আয়োজিত অংশগ্রহণমূলক জলবায়ু ঝুঁকি বিশ্লেষণ বিষয়ক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ অংশ নেন। সভায় তৃণমূল পর্যায়ে পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন বাস্তবায়ন, জলবায়ু ঝুঁকির প্রভাব হ্রাস এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর টেকসই জীবনমান নিশ্চিতের কর্মপন্থা নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়।
কর্মসূচির শেষ পর্বে অতিথিরা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি, উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। সেখানে স্থানীয় টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সফল করতে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।