চাঁপাইনবাবগঞ্জে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন
আনন্দ, উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে উদযাপিত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহাবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী। দিনটি উপলক্ষে আলোচনা সভা, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে জেলা শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটির উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির সভাপতি এবং উত্তরবঙ্গ বৈষ্ণব সংঘের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য শ্রীল শ্যামকিশোর দাস গোস্বামীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিপ্লব কুমার মজুমদার।
আলোচনা সভায় বিশেষ বক্তা ও অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একরামুল হোসাইন, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ডাবলু কুমার ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক ধনঞ্জয় চ্যাটার্জি, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের জেলা সভাপতি শ্রী দিলীপ রায়, বাংলাদেশ হিন্দু কল্যাণ ঐক্য ফ্রন্টের জেলা আহ্বায়ক মহন্ত হালদার, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের জেলা সদস্য সচিব শ্রী তরুণ সাহা এবং জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটির সম্পাদক নারু গোপাল পাল।
এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গোমস্তাপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা মনতোষ চক্রবর্তী ও শিবগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার দাসসহ জেলা পুলিশের কর্মকর্তা এবং সনাতন ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, অন্যায়, অধর্ম ও অশুভ শক্তিকে দমন করে সমাজে সত্য, ন্যায় এবং মানবতা প্রতিষ্ঠার ব্রত নিয়েই ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ধরাধামে আবির্ভাব ঘটেছিল। তাই জন্মাষ্টমী নিছক কোনো আনুষ্ঠানিক উৎসব নয়; এটি পারস্পরিক শান্তি, সম্প্রীতি, অহিংসা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার শাশ্বত এক বার্তা বহন করে। বর্তমান সময়ে সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে শ্রীকৃষ্ণের সেই আদর্শ ধারণ করা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথি এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। বাদ্যযন্ত্র ও শ্রীকৃষ্ণের বিভিন্ন সাজে সজ্জিত হয়ে ভক্তবৃন্দের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্থানীয় ঠাকুরানী মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়। পরে শোভাযাত্রায় সুশৃঙ্খল ও দৃষ্টিনন্দন উপস্থাপনার জন্য অংশ নেওয়া সংগঠনগুলোর মধ্য থেকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি, সামাজিক সৌহার্দ্য রক্ষা এবং ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ-ব্যাধি থেকে গণমানুষের সুরক্ষা কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।