শনিবার , ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমরাজশাহীএআই ছবি দিয়ে ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ কাউন্সিলর প্রার্থী নাঈমের

এআই ছবি দিয়ে ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ কাউন্সিলর প্রার্থী নাঈমের

favicon
স্টাফ রিপোর্টার :
এআই ছবি দিয়ে ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ কাউন্সিলর প্রার্থী নাঈমের

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী বিপ্লব রহমান নাঈমকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাঁর ছবির সঙ্গে কথিত এক মাদক বিক্রেতার ছবি যুক্ত করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন নাঈম।

নাঈমের অভিযোগ, আগামী কাউন্সিলর নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিহিংসাপরায়ণ একটি মহল পরিকল্পিতভাবে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর ‘লাবনী আক্তার’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে এ ধরনের পোস্ট করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

বিপ্লব রহমান নাঈম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের পাশে থেকে বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন। কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়ার আগে থেকেই নিজের উদ্যোগ ও অর্থায়নে এলাকার রাস্তাঘাট সংস্কার, অপরিকল্পিত ও অপরিচ্ছন্ন ড্রেনের পানি চলাচলের ব্যবস্থা, নতুন টিউবওয়েল স্থাপন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ডাস্টবিন স্থাপনসহ বিভিন্ন কাজ করেছেন বলে দাবি তাঁর।

এ ছাড়া এলাকার বিভিন্ন অলিগলিতে নষ্ট বা অনুপস্থিত সড়কবাতি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া এবং মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখার কথাও জানান তিনি।

নাঈমের অভিযোগ, তাঁর এসব কর্মকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছে। তাঁর ছবির সঙ্গে কথিত এক মাদক ব্যবসায়ীর ছবি যুক্ত করে এমনভাবে প্রচার করা হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়।

নাঈম বলেন, “২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সন্তান হিসেবে আমি একটি কথাই বলতে চাই—ওয়ার্ডবাসীর জন্য যা কিছু করেছি, তা কাউন্সিলর হওয়ার জন্য করিনি। আমি নিজ উদ্যোগে এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যক্রম চালিয়েছি। অথচ এখন মাদক বিক্রেতার সঙ্গে আমার ছবি রয়েছে—এমন প্রচারণা চালানো হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমার সম্পর্কে যারা জানেন, তারা জানেন আমি মাদকবিরোধী অবস্থানে ছিলাম। মাদক বিক্রি কিংবা কোনো মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা কখনো ছিল না। ওয়ার্ডের বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে আমার কাছে আসেন। সেই সুযোগ নিয়ে কারও সঙ্গে তোলা ছবি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে অপপ্রচার চালানো অত্যন্ত দুঃখজনক।”

নাঈমের দাবি, ফেসবুকে দেওয়া এসব পোস্ট তাঁর কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তিও শেয়ার করেছেন। পোস্ট ও শেয়ারের তথ্য তিনি সংরক্ষণ করেছেন বলেও জানান।

তিনি বলেন, “আমি যদি কোনো অপরাধ করে থাকি, তাহলে অবশ্যই আমার শাস্তি হওয়া উচিত। কিন্তু যদি এসব প্রচারণা মিথ্যা হয়, তাহলে যারা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব।”

নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে নাঈম আরও বলেন, “যারা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছেন, তারা যদি এর সত্যতা প্রমাণ করতে পারেন এবং প্রমাণ হয় যে আমি এর সঙ্গে জড়িত, তাহলে আমি তা মেনে নেব। আর যদি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন এবং আমি নির্দোষ প্রমাণিত হই, তাহলে প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের নিজের পরিবারের সদস্যের সঙ্গে তুলনা করে নাঈম বলেন, কাউন্সিলর হওয়ার প্রত্যাশার চেয়ে এলাকার সন্তান হিসেবে মানুষের পাশে থাকাই তাঁর মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, “আমি ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিচার ও সিদ্ধান্তের দায়িত্ব ওয়ার্ডবাসীর ওপর ছেড়ে দিলাম। তারা আমাকে যোগ্য প্রার্থী মনে করলে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডকে নতুনভাবে সাজানোর দায়িত্ব দেবেন। আমি কাউন্সিলর হিসেবে নয়, আপনাদের সন্তান হিসেবে সুখে-দুঃখে পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকব।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ‘লাবনী আক্তার’ নামের ফেসবুক আইডির ব্যবহারকারী কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারও ছবি সম্পাদনা, এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিবর্তন কিংবা বিভ্রান্তিকর তথ্য সংযুক্ত করে প্রচার করা হলে তা নিয়ে আইনগত জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই কোনো পোস্ট বা ছবি শেয়ার করার আগে এর সত্যতা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এআই ছবি দিয়ে ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ কাউন্সিলর প্রার্থী নাঈমের
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
mail.dailyupochar.com
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দৈনিক উপচার
 শনিবার , ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমরাজশাহীএআই ছবি দিয়ে ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ কাউন্সিলর প্রার্থী নাঈমের

এআই ছবি দিয়ে ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ কাউন্সিলর প্রার্থী নাঈমের

favicon
স্টাফ রিপোর্টার :
এআই ছবি দিয়ে ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ কাউন্সিলর প্রার্থী নাঈমের

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী বিপ্লব রহমান নাঈমকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাঁর ছবির সঙ্গে কথিত এক মাদক বিক্রেতার ছবি যুক্ত করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন নাঈম।

নাঈমের অভিযোগ, আগামী কাউন্সিলর নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিহিংসাপরায়ণ একটি মহল পরিকল্পিতভাবে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর ‘লাবনী আক্তার’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে এ ধরনের পোস্ট করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

বিপ্লব রহমান নাঈম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের পাশে থেকে বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন। কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়ার আগে থেকেই নিজের উদ্যোগ ও অর্থায়নে এলাকার রাস্তাঘাট সংস্কার, অপরিকল্পিত ও অপরিচ্ছন্ন ড্রেনের পানি চলাচলের ব্যবস্থা, নতুন টিউবওয়েল স্থাপন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ডাস্টবিন স্থাপনসহ বিভিন্ন কাজ করেছেন বলে দাবি তাঁর।

এ ছাড়া এলাকার বিভিন্ন অলিগলিতে নষ্ট বা অনুপস্থিত সড়কবাতি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া এবং মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখার কথাও জানান তিনি।

নাঈমের অভিযোগ, তাঁর এসব কর্মকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছে। তাঁর ছবির সঙ্গে কথিত এক মাদক ব্যবসায়ীর ছবি যুক্ত করে এমনভাবে প্রচার করা হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়।

নাঈম বলেন, “২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সন্তান হিসেবে আমি একটি কথাই বলতে চাই—ওয়ার্ডবাসীর জন্য যা কিছু করেছি, তা কাউন্সিলর হওয়ার জন্য করিনি। আমি নিজ উদ্যোগে এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যক্রম চালিয়েছি। অথচ এখন মাদক বিক্রেতার সঙ্গে আমার ছবি রয়েছে—এমন প্রচারণা চালানো হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমার সম্পর্কে যারা জানেন, তারা জানেন আমি মাদকবিরোধী অবস্থানে ছিলাম। মাদক বিক্রি কিংবা কোনো মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা কখনো ছিল না। ওয়ার্ডের বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে আমার কাছে আসেন। সেই সুযোগ নিয়ে কারও সঙ্গে তোলা ছবি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে অপপ্রচার চালানো অত্যন্ত দুঃখজনক।”

নাঈমের দাবি, ফেসবুকে দেওয়া এসব পোস্ট তাঁর কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তিও শেয়ার করেছেন। পোস্ট ও শেয়ারের তথ্য তিনি সংরক্ষণ করেছেন বলেও জানান।

তিনি বলেন, “আমি যদি কোনো অপরাধ করে থাকি, তাহলে অবশ্যই আমার শাস্তি হওয়া উচিত। কিন্তু যদি এসব প্রচারণা মিথ্যা হয়, তাহলে যারা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব।”

নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে নাঈম আরও বলেন, “যারা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছেন, তারা যদি এর সত্যতা প্রমাণ করতে পারেন এবং প্রমাণ হয় যে আমি এর সঙ্গে জড়িত, তাহলে আমি তা মেনে নেব। আর যদি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন এবং আমি নির্দোষ প্রমাণিত হই, তাহলে প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের নিজের পরিবারের সদস্যের সঙ্গে তুলনা করে নাঈম বলেন, কাউন্সিলর হওয়ার প্রত্যাশার চেয়ে এলাকার সন্তান হিসেবে মানুষের পাশে থাকাই তাঁর মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, “আমি ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিচার ও সিদ্ধান্তের দায়িত্ব ওয়ার্ডবাসীর ওপর ছেড়ে দিলাম। তারা আমাকে যোগ্য প্রার্থী মনে করলে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডকে নতুনভাবে সাজানোর দায়িত্ব দেবেন। আমি কাউন্সিলর হিসেবে নয়, আপনাদের সন্তান হিসেবে সুখে-দুঃখে পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকব।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ‘লাবনী আক্তার’ নামের ফেসবুক আইডির ব্যবহারকারী কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারও ছবি সম্পাদনা, এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিবর্তন কিংবা বিভ্রান্তিকর তথ্য সংযুক্ত করে প্রচার করা হলে তা নিয়ে আইনগত জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই কোনো পোস্ট বা ছবি শেয়ার করার আগে এর সত্যতা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এআই ছবি দিয়ে ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ কাউন্সিলর প্রার্থী নাঈমের
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
mail.dailyupochar.com
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬