চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৫ যুবককে ইলেকট্রিক্যাল প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ৫৩ বিজিবি
সীমান্তবর্তী জনপদের কর্মহীন তরুণদের কারিগরি দক্ষতায় দক্ষ করে তোলা এবং স্বাবলম্বী ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৫ জন প্রান্তিক যুবককে নিয়ে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী ‘ইলেকট্রিক্যাল ও হাউজ ওয়্যারিং’ বিষয়ক পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ। আজ রোববার সকালে সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ব্যবস্থাপনায় এই কল্যাণমূলক কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
সীমান্ত পাহারা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মূল দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়মিত বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে বিজিবি। এই বাস্তবতায় তরুণ সমাজকে উৎপাদনশীল ও দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাছাইকৃত ৩৫ জন বেকার যুবক এতে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন।
প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্টরা জানান, আধুনিক বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ইলেকট্রিক্যাল এবং ওয়্যারিং কাজের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এই বাস্তবমুখী কারিগরি জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে যুবকেরা যেমন স্থানীয় পর্যায়ে বৈদ্যুতিক কাজের মাধ্যমে দৈনিক আয় করতে পারবেন, তেমনি গড়ে তুলতে পারবেন নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সর্বোপরি সীমান্ত এলাকায় কাজের সুযোগ সীমিত থাকায় বেকারত্বের সুযোগ নিয়ে তরুণদের মাদক চোরাচালানসহ নানাবিধ অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার যে ঝুঁকি তৈরি হয়, এ ধরনের কর্মসংস্থানমুখী প্রশিক্ষণ তা প্রতিরোধে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
প্রশিক্ষণার্থীরা এ উদ্যোগকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় হিসেবে দেখছেন। প্রশিক্ষণার্থী মো. রাজু ও মেহেদী হাসান বলেন, সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এমন পেশাগত কাজ শেখার সুযোগ সীমান্তবর্তী পিছিয়ে পড়া তরুণদের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ। প্রশিক্ষণ শেষে অর্জিত সনদ ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে শুধু দেশীয় বাজারেই নয়, বিদেশেও কারিগরি কর্মী হিসেবে ভালো বেতনে কাজ করার নতুন পথ উন্মোচিত হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান। এ ছাড়া ইসলামপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক শাহিনুর রহমান, চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিজিবির পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, সীমান্ত জনপদে স্থিতিশীলতা ও টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিতের অন্যতম শর্ত হলো স্থানীয়দের অর্থনৈতিক মুক্তি, আর সেই লক্ষ্যেই যুবসমাজকে স্বাবলম্বী করার এমন প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।