তানোরে বিরোধের জেরে দোকানে হামলা ও লুটপাট
রাজশাহীর তানোর উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রকাশ্যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি এক নারীকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের মালশিরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে ভুক্তভোগী নারী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তানোর থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মালশিরা গ্রামের বাসিন্দা রাম চরণ চৌধুরী ও তাঁর সহযোগীদের সঙ্গে স্থানীয় একটি পক্ষের দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে রাম চরণের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিতভাবে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ফিল্মি কায়দায় দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর ও মালামাল তছনছ করে।
হামলার সময় বাধা দিতে গেলে মজিদা বেওয়া নামের এক নারীকে লাঞ্ছিত ও মাটিতে ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে তাঁর হাতের দুটি আঙুল ভেঙে যায় এবং হাঁটুর সংযোগস্থলে গুরুতর জখম হয়। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।
ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলাকারীরা দোকানে ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করে। এ সময় দোকানে থাকা নগদ দুই লাখ টাকা ও পাঁচটি মুঠোফোন লুট করে নেওয়া হয়। পাশাপাশি আহত মজিদা বিবির গলায় থাকা প্রায় দুই ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইনও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় মালশিরা গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী হিরা বিবি বাদী হয়ে রাম চরণ চৌধুরীসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৬ জনকে অভিযুক্ত করে তানোর থানায় এজাহার দাখিল করেছেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, যার ফলে পুরো পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
এ বিষয়ে তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে প্রাথমিক তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।